চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স বাংলা pdf download by নাইম হোসেন ফারুকী

চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স pdf download /cha coffee ar quantum mechanics pdf


বইয়ের নামঃ চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস

লেখকঃ নাইম হোসেন ফারুকী

বইয়ের রেটিংঃ ৪.৫/৫

 

শুরুতেই লেখক সম্পর্কে কিছু কথা বলে নিই। নাঈম হোসেন ফারুকী ভাই বুয়েট থেকে পাশ করেছেন কম্পিউটার সায়েন্সে। তিনি বই লেখেছেন বেশ কিছু। এর ভিতর আছে বিজ্ঞানে অজ্ঞান, সায়েন্সবেঞ্চার আর চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিকস এবং মহিষমতির সমীকরণ।

আমার দেখে মতে তার লেখার হাত অনেক ভাল। যাই হোক, আপনি চাইলে এই বই কিনে পড়তে পারেন।

#চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস pdf download

#cha coffee ar quantum mechanics pdf

#চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস

লেখক বইটি উৎসর্গ করেছেন তার নানীকে। তিনি বলেনঃ

 

উৎসর্গ -আমার নানীকে যাকে আমি আম্মা বলি। যার পড়ালেখা মেট্রিক পর্যন্ত। যে আমাকে ছোটবেলায় রুপকথার গল্প শুনায়নি। আমার চার বছর বয়সের সময় হাতে গোল বল দিয়ে বলেছিলো, পৃথিবীটা এই বলের মত গোল যেটা সুর্যের চার পাশে ঘুরছে। আর প্রথম যে তিনজন মানুষ চাদে গিয়েছিলো তাদের নাম নীল আর্মস্ট্রং , মাইকেল কলিন্স আর অল্ড্রিন।

 

বইটা সম্পর্কে জানতে হলে আপনি দয়া করে রিভিউগুলো পড়ুন। এতে আপনি বই সম্পর্কে ধারণা পাবেন।

#চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস pdf download

#cha coffee ar quantum mechanics pdf

#চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস

চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিকস বই রিভিউ-১

 

এটা একটা সৌভাগ্যের বিষয় যে আমি কোয়ান্টাম বলতে মেকানিক্স কেই বুঝতাম। কোনো ধ্যানকে না। এই ধ্যানওয়ালা কোয়ান্টাম যে একটা আছে এবং সেটা মেকানিক্স থেকেও বেশ জনপ্রিয় তা জানি গতবছর লেখকের পোস্ট থেকে। আমার অবশ্য কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে প্রথমে অতো ইন্টারেস্ট ছিলো না। তখন জানতাম, এটা বিজ্ঞানের একটা শাখা, এখানে কণা নিয়ে আলোচনা করা হয়, ব্যাস। পরে কসমোলজির বই পড়তে দিয়ে দেখি কোয়ান্টাম মেকানিক্স আসলেই একটা মজার বিষয় এবং কসমোলজির জন্য এটাও জানতে হবে। সৌভাগ্যক্রমে লেখক সেবছর থেকেই বইয়ের কাজ শুরু করেন। এবার রিভিউতে আসি।

বইটা সেমি-পপ বই। শুরুর বেশখানিকটাই পপ, পরে আস্তে আস্তে দেখা মেলে অংকের আর কিছু হালকা জটিল বিষয়ের। প্রথমদিকে লেখক দেখান কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর শুরু কিকরে হয়, এরপর কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর জনক দের গল্প। এরপর আসে পরমাণুর গল্প, কেন নানান পরমাণু মডেল বাদ গেলো তাদের বিশ্লেষণ। এরপর লেখক আস্তে আস্তে নিয়ে যান কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর আরো গভীরে, সেখানে দেখান কণা কণার পাশাপাশি একই সাথে তরঙ্গ, বিখ্যাত অনিশ্চয়তার নীতি ঠিক কি জিনিস, আরো গভীরে ফার্মিওন আর বোজনের ভূতুরে কীর্তি। কিভাবে বোজনরা এক সাথে থাকে, কেন ফার্মিওনরা তা পারে না। আরো গভীরে, বিড়াল জাতির শত্রু শ্রোডিঙ্গারের সমীকরণ, কোয়ান্টাম টানেলিং এর কথা। এপর্যন্ত আমার কোনো ঝামেলা হয়নি, তবে আমি বেলের অসমতা আর এনট্যাঙ্গেলমেন্ট এ বেশ ঝামেলায় পরি, এ দুটো আমার কাছে একটু কঠিনই লেগেছে, তবে সেটা ঠিক লেখকের দোষ নয়, বইটা আমি আবার পড়বো পরীক্ষার পর। সবশেষে মাল্টিভার্স এর লিখা দিয়ে শেষ হয় এই বইটি। বইয়ের প্রতি অধ্যায়ের পর আছে একটি বিরতির অধ্যায়, মনকে ফ্রেশ করার জন্য।আর প্রতিটি অধ্যায় শুরু হয় বিখ্যাত ব্যাক্তির উক্তি দিয়ে৷
লেখকের লিখার হাত চমৎকার। ঠিক যেন আপনার সাথে কেউ গল্প করছে৷ পুরো বই জুড়ে আছে নানান প্রয়োজনীয় গ্রাফ আর ছবি, যা বুঝানোতে আরো সহজ করে তোলে। ঠিক যেন একজন আপনাকে সরাসরি বুঝাচ্ছেন আর বোর্ডে প্রয়োজনীয় ছবি আঁকছেন। লেখক ঠিক যতটুকু সহজ করা যায় ঠিক ততটুকুই সহজ করেছেন৷ একটা বিষয় বোঝানোর আগে, কাল্পনিক গল্পের ছলে তার প্রধান বিষয় বোঝানোর চেষ্টাটা অসাধারণ ছিল। আর অধিকাংশ অধ্যায় জুড়ে ছিল, নিজে ভাবার জন্য কাজ। বইটা পড়লেই এর পেছনে লেখকের সময় এবং শ্রম বুঝা যায়।
বইটা অনার্সের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অনেক কিছুই কভার করে, এ নিয়ে অধ্যয়নরত সকলেই এটা পড়া উচিত।
একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে
“শিক্ষার সম্পূর্ণতা ততদিন হইতে পারে না, যতদিন সে শিক্ষার বাহন মাতৃভাষা না হয়।” – ড. কুদরত-এ-খুদা
আমাদের দেশে বিজ্ঞানচর্চা বেড়েছে ও বাড়ছে। তবে বিশ্ব বিজ্ঞানের বই হিসেবে আমাদের অনেক অনেক ভালো বইয়ের অভাব। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এ বইটা কোয়ান্টাম মেকানিক্স শুরুর জন্যে নিঃসন্দেহে দুই বাংলায় এখন পর্যন্ত লেখা বেস্ট বই। তাও বাংলায় লিখা মৌলিক বই, অনুবাদ বা কোনো বইয়ের অবলম্বনে লিখা নয়৷ তাছাড়া, ইংরেজিতে কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর সেমি-পপ বই আমার জানামতে নেই। আমাদের দেশে এই জাতের বই গুরুতর প্রয়োজন। দেশের অধিকাংশ লেখকদের বই হয়, পপ পড়ে পপ বই লিখা। খুবই কম সংখ্যক লেখক সেমি-পপ বা টেক্সট বই পড়ে পপ বা সেমি-পপ লেখেন। তবে এই লেখক টেক্সট বই পড়ে এই সেমি-পপ বইটা লিখেছেন। এ লেখকের অবশ্য এই জাতের আরো ৩টা বই বের করার ইচ্ছে রাখেন – কোয়ান্টাম ফিল্ড, আপেক্ষিকতা আর সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে৷ দেশের অন্যান্য অনেক বইয়ের বিবেচনায় এই জাতের এসব বই প্রতিটিই হতে পারে এক একটি অমূল্য সম্পদ। এ বইয়ের জন্য লেখকের নিকট আমি কৃতজ্ঞ, লেখকের ভবিষ্যতের অন্যান্য সকল বইয়ের জন্য শুভকামনা।



আরেকটি বিষয়, অনেকেই হয়তো লেখকের লেখাপড়ার বিষয় দেখে বলবেন, উনিতো সরাসরি পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়েন নি, বুয়েটের সি.এস.ই তে পড়েছেন। অবশ্য উনি নিজে পড়ে যতটুকু বুঝেন অনেকেই পদার্থবিজ্ঞান এ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে ততটুকু বুঝেন না। তাদের জন্য বলেরাখি, মাইকেল ফ্যারাডের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকায় কেউ হয়তো কোনোদিন কল্পনাও করেনি যে উনি পদার্থবিজ্ঞানে চমক দেখাবেন। তাই, পদার্থবিজ্ঞান বুঝার জন্য যে পদার্থবিজ্ঞানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাগবে একথা বলা গুরুতর অন্যায়। বুঝা একজিনিস, পরীক্ষায় পাস করা অন্য জিনিস।
০৩/০৫/২০২০
নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,
চট্টগ্রাম।
চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস pdf download

চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিকস রিভিউ-২

বইয়ের নামঃ চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স
লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী
রেটিংঃ আমার ধর্ত্যবের বাইরে ।
রিভিউয়ারঃ সোহম
প্রথমেই বলি, আমি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের যত বই পড়েছি, তার মধ্যে সবথেকে মজাদার ছিল এই বইটি। Quantum mechanics -এর মতো একটা জটিল বিষয়কে যে এত সরসতার সাথে , গল্পের মাধ্যমের উপস্থাপন করা সম্ভব তা বইয়ের নাম দেখেই যাচ্ছে।
এই বইতে ক্লাস ৯- ১০ -এর জিনিসগুলোকে প্রথমে ব্যাখ্যা করে, তারপরে আস্তে আস্তে তরঙ্গ, স্টেট, জটিল তরঙ্গ, ফাংশন ইত্যাদি অতি সন্তর্পনে ব্যাখ্যা করেছেন।
Einstein বলেছেন, “Example is not a way to teach physics but it is the only way to teach physics”. এই বইটি তার একটা প্রকৃষ্ট উদাহরন। আক্কাস আলী, বক্কর ভাই ইত্যাদি কাল্পনিক চরিত্রের অবতারনা করে লেখক কোয়ান্টাম জগতের বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন,যা লেখকের মানবমনের ফসল।
# সূচিপত্র
#আলুর বস্তা আর আলোর প্যাকেটঃ এই অংশে লেখক কোয়ান্টাজাইড রাশির ধারনা উদাহরনের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন।
পরমাণুর গল্প: এখানে পরমাণুর প্রাচীন ধারনা,
টমসনের প্লাম-পুডিং মডেল,রাদারফোর্ডের মডেল
ইত্যাদি আলোচনা করেছেন।
এরপর পার্টিকেল সম্পর্কে কিছু ধারনা দিয়েছেন।
#বোরের বর্ণালিঃ এখানে হাইড্রোজেনের পরমানুর বর্ণালির উত্পত্তি ও তার কারন ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তারপর সমারফিল্ডের মডেল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
#স্পিন: কি এই জিনিস?ঃ এখান থেকেই প্রাথমিক পর্যায় শুরু, অর্থাত্ electron -এর spin ধারনার অবতরন।
#তরঙ্গ বলবিদ্যাঃ এখানে young’s double slit experiment আলোচনা করা হয়েছে। তাপরপর einsitine -এর বিশিষ্ট কীর্তি ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্ট ,ডি ব্রগলির দ্বিচির সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
#ফোটনের দুঃখের জীবনঃ লেখক খুবই আশ্চর্যভাবে খুবই মজার উদাহরনের সাহায্যে photon -এর গঠন, চলন ব্যাখ্যা করেছেন। তারপর রয়েছে ভরের জন্ম কীভাবে হয় তার ব্যাখ্যা।
#এরপর রয়েছে De-broglie র তরঙ্গ-কনিকা দ্বিত-র আলোচনা।
#অনিশ্চয়তার নীতিঃ
#ওয়েভ ফাংশন কল্যাপ্সঃ জটিল বিষয়টিকে খুবই সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
#তরপর অাছে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্র,স্টেট আর সুপারপজিশন, এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটার -এর মতো খুবই interesting একটা জিনিস।
#লেখক ফার্মিওন আর বোজোন কনাদুটোর আচরন উদাহরন দিয়ে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তারপর আছে নক্ষত্র আর ব্ল্যাক হোল এবং পলির নীতি।
#শ্রোডিঙ্গারের সমীকরণঃ shrodinger যে নামটা অনেকের কাছেই so danger হিসেবে পরিচিত,সেটাকে খুবই বাস্তব উদাহরনের সাহায্যে বোঝানো হয়েছে।এখানে ψ ,জটিল তরঙ্গ,ψএর সমীকরণ ব্যাখ্যা করেছেন।
#কোয়ান্টাম টানেলিংঃ একটি অবিশ্বাস্যরকমের সুন্দর ধারনা।
তারপর আছে –
1)কোপেনহ্যাগেন ইন্টারপ্রিটেশান
2)শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল
3)ই পি আর প্যারাডক্স
4)বেলের অসমতা
5)এনট্যাঙ্গেলমেন্ট
6)সিমিউলেটেড ইউনিভার্স
7)মাল্টিভার্স আর সুপারডিটারমিনিজম
-এই বিষয়গুলোর অদ্ভূত কিছু গল্প আর ব্যাখ্যা

#উপসংহারঃ এই অংশে লেখক নিজস্ব কিছু মতামত রেখেছেন, যা পাঠককে সমৃদ্ধ করবে।

#পরিশিষ্টঃ এই অংশে কিছু গাণিতিক সমীকরনের প্রতিপাদন করা হয়েছে, যেমন-E =mc^2, shrodinger equation,বেলের অসমতা।
#১) সমগ্র বইটিতে অসংখ্য graph -এর সরল ব্যাখ্যা অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
২)প্রতি পাঠের শেষে আছে চা পানের বিরতির আলোকে কিছু মজাদার বৈজ্ঞানিক গল্প ও তথ্য।
এক কথায় Quatum mechanics -এর আগ্রহীদের কাছে এটা একটা অমূল্য সম্পদ।
#আমার_বিশেষপাওনাঃ
১)জটিল তরঙ্গের ধারনা,
২)Schrodinger equation _এর সমাধান ও প্রতিপাদন,
৩)বেলের অসমতা ও তার গাণিতিক প্রমান
-এখন quantum _এর জগত সম্পর্কে আমার প্রাথমিক ধারনা পুরোপুরি স্পষ্ট। এছাড়া বইটা থেকে আমি অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি।
#লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করব তিনি আগামীতেও এরকম বই লিখে আমাদের সমৃদ্ধ করবেন।
চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস pdf download

চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিকস রিভিউ-৩

বইঃ চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স
লেখক : নাঈম হোসেন ফারুকী
ক্যাটাগরি : পদার্থবিজ্ঞান

প্রথমেই অসংখ্য ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় Nayeem Hossain Faruque ভাইয়াকে,আমাকে তার এই অসাধারণ সৃষ্টিকর্ম উপহার দেয়ার জন্য।



পদার্থবিজ্ঞান আমার কাছে বরাবরই এক কাঠখোট্টা বিষয় ছিল।হিজিবিজি সমীকরণ আর গণিতের ভিড়ে খেই হারিয়ে পালিয়ে বেড়াবার জায়গা খুঁজতাম।স্কুল কলেজের মোটা মোটা বই আর মাথা খারাপ করা সূত্রগুলো দেখে মনে হতো,কি হতো যদি বিজ্ঞানীরা এসব আবিষ্কার না করতেন?কি হতো যদি আইনস্টাইন,নিউটন,হাইজেনবার্গ,নীলস বোররা না জন্মাতেন?খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যেতো কি?আমাদের মত কোমলমতি ছাত্রদের মাথা খারাপ হতো না অন্তত।আমি ভাবতাম এমন।
আমি নিশ্চিত,আমার মত এমন ধারণা নিশ্চয়ই রয়েছে অনেক পড়ুয়ার।যদিও আমরা সবাই জানি আধুনিক পৃথিবী আমরা পেয়েছি পদার্থবিজ্ঞানের বদৌলতে,এই যে নানান রকম চোখ ধাঁধানো প্রযুক্তি,যা দেখে মনে হয় যেন মানুষ সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে পোছে গেছে,তার সবকিছুই দাঁড়িয়ে আছে এই হিজিবিজি সূত্রগুলো আর লম্বাচুলো বিজ্ঞানীদের কল্যাণে।
তবুও কেন এর প্রতি এত বিতৃষ্ণা?
কারণ একটাই,প্রমথ চৌধুরী সেটা তার বই পড়া প্রবন্ধে বলে দিয়েছেন।”আমাদের স্কুল কলেজে ছেলেমেয়েদের বিদ্যে গেলানো হয়।”কাঠখোট্টা একাডেমিক পড়াশোনা ও মোটা বইগুলোর চাপে যে কারো মনে জাগতে পারে বিতৃষ্ণা।
কোয়ান্টাম মেকানিক্স,যেটি পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা,আমার কাছে ঠিক এমনই কাঠখোট্টা একটি বিষয় ছিল।
শ্রোডিঞ্জারের সূত্র আর বিড়ালের কাহিনী শুনেই অজ্ঞান হবার জোঁ,মাথায় ঢুকত না কিছুই।কলেজের শিক্ষকরা পর্যন্ত শ্রোডিঞ্জারের সমীকরণ এড়িয়ে যেতেন।
কেন?
কোয়ান্টাম মেকানিক্স মানেই কি শুধু হিজিবিজি সূত্রের ঝনঝনানি?এর মাঝে কি উপভোগ্য কিছুই নেই?
অবশ্যই আছে,কিন্তু যা ছিল না তা হলো সুন্দর ও বোধগম্য ভাষায় বোঝানোর মত লেখা।একাডেমিক বইগুলো যেভাবে লেখা বা শিক্ষকরা যেভাবে বোঝান,তাতে যে কেউ এমন উপভোগ্য ও বিস্ময়কর একটি বিষয়ের উপর বিরক্ত হতে বাধ্য।
এসবের চাপে আমি যখন ত্যক্তবিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম আর মনে মনে সূত্রের আবিষ্কারকের মুন্ডুপাত করচ্ছিলাম,আমার জীবনে নতুন সূর্যের উদয় হয়।
বিসিবির কল্যাণে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ফেরে আমার।নাঈম ভাইয়ার চমৎকার লেখনীর ভক্ত হয়ে যাই।জানতে পারি এই কাঠখোট্টা বিষয়ে তার একটি বই রয়েছে। আগ্রহ প্রকাশ করি বইটি নেয়ার,যথাসময়ে ভাইয়ার কাছ থেকে উপহার পাই।
ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করি,আর ডুব দিতে থাকি অন্য এক জগতে।যেসব বিষয়ের মাঝে আমি সূত্র আর সমীকরণ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেতাম না,জানতে পারি তার মধ্যে রয়েছে গভীর এক মাধুর্য।
বইটি যতই পড়তে থাকি,লেখকের চমৎকার লেখনী ও সহজবোধ্য উপস্থাপন আমাকে মুগ্ধ করে তোলে।আমার কাছে এত জটিল মনে হওয়া একটি বিষয়কে যে এত সহজ ভাষায় বোঝানো যায়,তা আমার ধারণাতীত ছিল।
শুরুতেই আলুর বস্তা আর আলু চোরের চমৎকার গল্পের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে আলোর প্যাকেটের ধারণা।এরপর আমরা জানতে পারি এই সমৃদ্ধ শাখাটি তিলে তিলে গড়ে তোলার পেছনের কলাকুশলীদের কথা।যাদের মুন্ডুপাত করলাম আমি,তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় নত হই এখন।আসে পরমাণুর মডেল,সব মডেলের চমৎকার বিশ্লেষণ।তরঙ্গ বলবিদ্যায় জানতে পারি ফোটনের দুঃখের কথা,তরঙ্গ ও কণার লুকোচুরির রহস্য।।
এভাবে একে একে ডুব দেই হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার জগতে, ফার্মিয়নের অভিমানী দুরত্বের আর বোজোনের সুখের সংসারে।
তারপরেই সামনে আসে সেই ভয়ানক ত্রিশূল যার মহত্ত্ব আগে জানা ছিল না।যে ত্রিশূলের সমীকরণ দেখে ভয় পেতাম ওই সাই এর গল্প ও শ্রোডিঞ্জারের সেই হিজিবিজি সমীকরণ।অত্যন্ত চমৎকার ভাষায় যেগুলো খুব সহজ করে বোঝানো হয়েছে।
পর্দার ওপারের অংশে জানতে পারি কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রিটেশন,ইপিআর প্যারাডক্স,অ্যান্টেঙ্গেলমেন্ট ইত্যাদি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আরো কিছু চমৎকার বিষয় সম্পর্কে যা আগে আমার অজানা ছিল।
শেষাংশে চলে যাই অন্য এক দুনিয়ায়,মাল্টিভার্সের অজানা জগতে যেখানে অপেক্ষা করছে
আমার প্যারালাল টুইন।যেখানে রয়েছে কিছু কল্পনাতীত বাস্তবতা।শেষ আরো কিছু প্রতিপাদন ও প্রমাণ দিয়ে সমাপ্তি ঘটে।
অধ্যায়গুলো পড়ার ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে চা পানের বিরতি,একটানা পড়ার মাঝে যা পঠনশক্তিকে উজ্জীবিত করে,দূর করে একঘেয়েমি।
বইয়ের প্রতি পদে পদে গল্পের মাধ্যমে লেখকের অসাধারণ উপস্থাপনা যেকোনো পাঠককে উৎসাহী ও বিমুগ্ধ করে তুলতে যথেষ্ট। আক্কাস আলী আর বক্কর ভাইয়ের নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে প্রতিটি অধ্যায়কে সহজবোধ্য ও সাবলীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।পাঠকের বোধগম্য করে তোলার জন্য জন্য আনা হয়েছে কিছু অসাধারণ উপমা।পাশাপাশি পাঠকের জন্য কিছু চমৎকার কুইজও রয়েছে যা আমাদের শেখায়,বাঁচতে হলে ভাবতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই,কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে যারা জটিল ও বিরক্তিকর বিষয় হিসেবে দেখে,তাদের ধারণা আমূল পাল্টে দেবে চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স।
বইটিকে রেটিং দেয়ার মত যোগ্যতা আমার নেই।
দুটি শব্দে যদি আমার পঠন অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করি তবে তা হবে,”অনন্য ও অভূতপূর্ব।”
(সমাপ্ত)
১৫-০৩-২০২১,চট্টগ্রাম।
চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস pdf download

চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিকস রিভিউ-৪

রিভিয়ারঃ Rayhan Ahmed
আমি বেশী কিছু বলব না। আমাদের যদি কোনো বই পড়ে ভাল লাগে তাহলে আমরা বলি বইটা ভাল। আর আমার ক্ষেত্রেও সেইম ঘটনা। আমার কাছে বইটা পরে ভাল লেগেছে। বিশেষ করে লেখক চা পানের বিরতি দিছেন সেইটা অনেক সুন্দর হয়েছে। আবার অনেক সময় এমন এমন চিত্র দিয়েছেন যা সত্যিই আমি অনেক বইতে দেখি নাই। যেমন ঃ সতর্কতা সামনে জটিল ম্যাথ আছে। এরকম অনেক কথা বলেছেন যা সত্যিই অনেক সুন্দর। এরপর বক্কর ভাই চরিত্রটাও অনেক ভাল।

তাই আর দেরী না করে Cha coffe ar quantam mechanics bangla pdf download / চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স bangla pdf বই টা ডাউনলোড করতে নিচের ডাউনলোড বাটন এ ক্লিক করুন।

চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস pdf download

চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিকস বইটা কোয়ান্টাম মেকানিকস বুঝার জন্য দারুণ একটা বই। আপনি চাইলে বইটা কিনতে পারেন। বইটি রকমারি থেকে কিনতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন


রকমারি লিংক



আপনি চাইলে বইটি অনলাইনে পড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে আমি বইটি নিচে দিয়ে দিচ্ছি।


চা কফি আর কোয়ান্টার মেকানিকস pdf download করুন।


Download Now



ধন্যবাদ ! আরো বইয়ের ডাউনলোড লিংক পেতে আমাদের সাথেই থাকুন

 



Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *